স্টক/শেয়ার কী?
স্টক বা শেয়ার হলো একটি কোম্পানির মালিকানার ক্ষুদ্র অংশ। কোনো কোম্পানি যখন ব্যবসা বাড়াতে বা নতুন প্রকল্প শুরু করতে অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন তারা শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। আপনি যখন কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনবেন, তখন আপনি সেই কোম্পানির একজন ক্ষুদ্র মালিক হয়ে যাবেন। অর্থাৎ কোম্পানির লাভ হলে আপনি লাভ পাবেন (ডিভিডেন্ড), আবার কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধি হলে আপনার শেয়ারের দামও বাড়বে।
এই কারণেই শেয়ার কেনাকে ইনভেস্টমেন্ট বলা হয়—আপনি ভবিষ্যতে লাভের আশায় কোম্পানির অংশ কিনছেন।
🔎 সহজ উদাহরণ
ধরুন একটি কোম্পানির নাম ABC Foods Ltd.
তাদের নতুন একটি ফ্যাক্টরি বানানোর জন্য ১০ কোটি টাকা দরকার। তারা সিদ্ধান্ত নিল এই ১০ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য কোম্পানির ১ কোটি শেয়ার বাজারে বিক্রি করবে।
এখন:
প্রতিটি শেয়ারের দাম ধরা হলো ১০ টাকা
(১ কোটি শেয়ার × ১০ টাকা = ১০ কোটি টাকা)
আপনি যদি ১০০০ টি শেয়ার কিনেন:
আপনার মোট বিনিয়োগ = ১০ × ১০০০ = ১০,০০০ টাকা
আপনি এখন ABC Foods Ltd.–এর ক্ষুদ্র মালিক
১ কোটি শেয়ারের মধ্যে আপনার আছে ১০০ শেয়ার
📌 এরপর কী হতে পারে?
১) কোম্পানি লাভ করল → শেয়ারের দাম বাড়ল
ধরুন ফ্যাক্টরি সফল হলো, কোম্পানির লাভ বেড়ে গেল।
তখন বাজারে চাহিদা বাড়লো এবং শেয়ারের দাম বেড়ে ১৫ টাকা হলো।
আপনার ১০০০ শেয়ারের মূল্য = ১০০০ × ১৫ = ১৫,০০০ টাকা
আপনার লাভ = ৫,০০০ টাকা
২) কোম্পানি ডিভিডেন্ড দিল
কোম্পানি সিদ্ধান্ত নিল প্রতি শেয়ারে ২ টাকা ডিভিডেন্ড দেবে।
আপনি পাবেন = ১০০০ শেয়ার × ২ টাকা = ২০০০ টাকা ডিভিডেন্ড
৩) কোম্পানির পারফরম্যান্স খারাপ হলে দাম কমতেও পারে
যদি ব্যবসা খারাপ চলে এবং শেয়ারের দাম ৮ টাকা পর্যন্ত নেমে যায়:
আপনার ১০০০ শেয়ারের মূল্য = ৮,০০০ টাকা → ২,০০০ টাকা ক্ষতি
সংক্ষেপে
শেয়ার কিনলে আপনি কোম্পানির অংশীদার হন।
কোম্পানি ভালো করলে আপনি লাভ পান (দাম বাড়া + ডিভিডেন্ড)।
কোম্পানি খারাপ করলে শেয়ারের দাম কমতে পারে।
কেন শেয়ারের দাম ওঠে–নামে?
স্টক মার্কেটের সবচেয়ে আলোচ্য বিষয় হলো—কেন শেয়ারের দাম একদিন বাড়ে আরেকদিন কমে। এর কিছু প্রধান কারণ:
১. Demand & Supply (চাহিদা ও জোগান)
বাজারে যদি কোনো শেয়ারের চাহিদা বেশি হয়, দাম বাড়বে। আবার বিক্রেতা বেশি হলে দাম কমবে।
২. কোম্পানির পারফরমেন্স
যে কোম্পানির ব্যবসা ভালো করছে, বিক্রি বাড়ছে, লাভ বাড়ছে—তাদের শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে।
৩. ভবিষ্যত সম্ভাবনা
চালু প্রজেক্ট, নতুন বিনিয়োগ, নতুন প্রযুক্তি—এসব কারণে কোম্পানির ভবিষ্যৎ ভালো হবে মনে করলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে, ফলে দাম বাড়ে।
৪. দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি
অর্থনীতি ভালো থাকলে বিনিয়োগ বাড়ে, মার্কেট বাড়ে। অনিশ্চয়তা তৈরি হলে শেয়ারের দাম পড়ে।
৫. বাজারে খবর/রিউমার
সঠিক-ভুল খবর উভয়ই মার্কেটে প্রভাব ফেলে। তাই অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা সবসময় ভেরিফাইড তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন।